ইউরোপীয় ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি যে উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে ফাটল ধরা শুরু করেছে কি না—সেই প্রশ্ন এখন ফুটবল পাড়ায় জোরালো। বিশেষ করে দলটির স্কোয়াড ডেফথ এবং ‘ম্যাচ ব্রেকার’ খেলোয়াড়দের অভাব এখন চোখে পড়ার মতো। সিটির বর্তমান স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে প্রথাগত ‘পাওয়ার হাউস’ বা এমন কোনো একক অতিমানবীয় পারফর্মার নেই, যিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন।
সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হলো দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রস্থান। জুলিয়ান আলভারেজ, কোল পালমার কিংবা ক্লাউদিও এচেবেরির মতো তরুণ তুর্কিদের ছেড়ে দেওয়া অথবা কেভিন ডি ব্রুইনা ও জ্যাক গ্রিলিশের মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলটিকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। এই খেলোয়াড়রা কেবল নামের ভারে বড় ছিলেন না, তারা ছিলেন একেকজন ‘ইন্ডিভিজুয়াল প্লে-মেকার’। মাঠের মাঝখানে যখন ডেডলক তৈরি হতো, তখন এই ব্রিলিয়ান্সগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন।
একঝাঁক ম্যাচ ব্রেকিং পারফর্মার একসাথে দলছুট হওয়ায় বা মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় সিটির আক্রমণভাগের সেই ধারালো ছন্দ আজ ম্রিয়মাণ। বর্তমান স্কোয়াডে যারা আছেন, তারা কৌশলগতভাবে দক্ষ হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ বের করে নেওয়ার সেই অদম্য মানসিকতা বা সক্ষমতা দেখাতে পারছেন না। ফলে পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল হয়, তখন বর্তমান খেলোয়াড়রা কোনো নির্দিষ্ট দিকেই খেলাকে ‘শিফট’ করতে পারছেন না।
পেপ গার্দিওলার এই সিস্টেম-নির্ভর ফুটবলে ব্যক্তিগত জাদুর অভাব এখন প্রকট। এক সময়ের পাওয়ার হাউস আজ যেন কেবল একটি সুশৃঙ্খল যন্ত্রে পরিণত হয়েছে, যার ভেতরকার স্ফুলিঙ্গটা হারিয়ে গেছে। যদি দ্রুত এই ‘ম্যাচ উইনার’ সংকটের সমাধান না হয়, তবে প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ পথচলায় সিটির আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
শহিদুল ইসলাম-ক্রিড়া প্রধান CN 
























