ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ, সিজারের ছয় মাস পর প্রাণ গেল নার্স বিথীর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রতি বুধবার কোর্টবাজার অরিজিন হাসপাতালে রোগী দেখবেন ও অপারেশন করবেন শিশু সার্জন ও ইউরোলজিস্ট বার্ন)রিকনস্ট্রাকটিভ ও কসমোটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সোনার পাড়ায় জালিয়াপালং ইউনিয়ন (উত্তর শাখা) বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে *অরিজিন হাসপাতাল ১দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প 🗓️ তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং রোজ: বৃহস্পতিবার📍 স্থান: অরিজিন হাসপাতাল, কোটবাজার,উখিয়া কক্সবাজার। মক্কার মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেন তিনি। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জামায়াত নেতার ভিডিও’- শীর্ষক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি উখিয়া উপজেলা জামায়াতের। 

চট্টগ্রাম ট্যাংক দুর্ঘটনা: রিফায়াতের বাড়িতে শোকের ছায়া, চলছে দাফনের প্রস্তুতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 26

চট্টগ্রাম ট্যাংক দুর্ঘটনা: রিফায়াতের বাড়িতে শোকের ছায়া, চলছে দাফনের প্রস্তুতি

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে স্বজনেরা ছুটে এসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে স্মৃতিচারণ করছেন। হঠাৎ করে রিফায়াতের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

নিহত তাসনিম রিফায়াত বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। তার রয়েছে আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান। মেয়েটির নাম রাফতা তাসলিম ইকরা। বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর বিষাদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের স্বজনেরা জানান, তাসনিম রিফায়াত কারিগরি শিক্ষা থেকে এসএসসি পাস করার পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগ দেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘদিন দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা রিফায়াতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা বলছেন, কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা রিফায়াতকে এভাবে হারানোর কথা তারা কখনো ভাবেননি।

মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার

রিফায়াতের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজশাহীতে আনার কথা রয়েছে। স্বজনেরা জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যেতে পারে। এরপর পারিবারিক ও স্থানীয় প্রস্তুতি শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ইতোমধ্যে মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে কবর খননের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দাফনের অন্যান্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

নিহত রিফায়াতের ভাই দিপ্ত বলেন, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ রাজশাহীতে নিয়ে আসা হবে। এরপর সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

‘ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন’

ছেলের মৃত্যুর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। রিফায়াত ছিলেন মেজ ছেলে। সন্তানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

বাবার এই কথায় যেন ফুটে উঠেছে সন্তান হারানোর গভীর শোক। বাড়িতে স্বজনদের ভিড় বাড়লেও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

আড়াই বছরের মেয়েকে রেখে চলে গেলেন রিফায়াত

তাসনিম রিফায়াতের রয়েছে আড়াই বছরের কন্যাসন্তান রাফতা তাসলিম ইকরা। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও বিষাদ। পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মজীবনে প্রায় এক দশক সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর এভাবে তার চলে যাওয়া তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এদিকে রিফায়াতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মরদেহ পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কান্নায় বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা নিহত তাসনিম রিফায়াতের আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ, সিজারের ছয় মাস পর প্রাণ গেল নার্স বিথীর

চট্টগ্রাম ট্যাংক দুর্ঘটনা: রিফায়াতের বাড়িতে শোকের ছায়া, চলছে দাফনের প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম ট্যাংক দুর্ঘটনা: রিফায়াতের বাড়িতে শোকের ছায়া, চলছে দাফনের প্রস্তুতি

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে স্বজনেরা ছুটে এসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে স্মৃতিচারণ করছেন। হঠাৎ করে রিফায়াতের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

নিহত তাসনিম রিফায়াত বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। তার রয়েছে আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান। মেয়েটির নাম রাফতা তাসলিম ইকরা। বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর বিষাদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের স্বজনেরা জানান, তাসনিম রিফায়াত কারিগরি শিক্ষা থেকে এসএসসি পাস করার পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগ দেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘদিন দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা রিফায়াতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা বলছেন, কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা রিফায়াতকে এভাবে হারানোর কথা তারা কখনো ভাবেননি।

মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার

রিফায়াতের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজশাহীতে আনার কথা রয়েছে। স্বজনেরা জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যেতে পারে। এরপর পারিবারিক ও স্থানীয় প্রস্তুতি শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ইতোমধ্যে মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে কবর খননের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দাফনের অন্যান্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

নিহত রিফায়াতের ভাই দিপ্ত বলেন, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ রাজশাহীতে নিয়ে আসা হবে। এরপর সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

‘ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন’

ছেলের মৃত্যুর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। রিফায়াত ছিলেন মেজ ছেলে। সন্তানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

বাবার এই কথায় যেন ফুটে উঠেছে সন্তান হারানোর গভীর শোক। বাড়িতে স্বজনদের ভিড় বাড়লেও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

আড়াই বছরের মেয়েকে রেখে চলে গেলেন রিফায়াত

তাসনিম রিফায়াতের রয়েছে আড়াই বছরের কন্যাসন্তান রাফতা তাসলিম ইকরা। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও বিষাদ। পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মজীবনে প্রায় এক দশক সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর এভাবে তার চলে যাওয়া তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এদিকে রিফায়াতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মরদেহ পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কান্নায় বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা নিহত তাসনিম রিফায়াতের আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।