উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকার শিশু কন্যা নুসাইবা অপহরণের ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনও উদ্ধার করতে না পারায় গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অসহায়ত্বে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। প্রতিটি দিন যেন তাদের জন্য অসহনীয় অপেক্ষা, প্রতিটি রাত কাটছে কান্না আর অনিশ্চয়তার মাঝে। নিষ্পাপ এই শিশুটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশায় তাকিয়ে আছে পুরো এলাকা।
শুধু নুসাইবা নয়—সম্প্রতি উখিয়া ও আশপাশের এলাকায় যেসব শিশু ও মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন, তাদের ভাগ্য নিয়েও সমানভাবে শঙ্কিত স্থানীয় জনগণ। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে উখিয়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপহরণকৃত শিশু নুসাইবা সহ সকল নিখোঁজ ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে উপজেলা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান আহমদসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ভাষায় বলেন, “একটি শিশুর অপহরণ মানে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে আতঙ্কিত করে তোলা। নুসাইবা আজ শুধু একটি নাম নয়, সে আমাদের সকলের সন্তান।” তারা অবিলম্বে শিশু নুসাইবা সহ সকল অপহরণকৃত শিশু ও ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, কার্যকর অনুসন্ধান এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা উখিয়া উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা, অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
অফিসার ইনচার্জ এ সময় আশ্বস্ত করে বলেন, অপহরণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং শিশু নুসাইবা সহ সকল অপহরণকৃতকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, শিশু নুসাইবা অপহরণের ঘটনা এলাকাজুড়ে তীব্র মানবিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল বারবার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—আর যেন কোনো মা-বাবাকে এভাবে সন্তানের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে না হয়।
নিজস্ব সংবাদ : 










