আব্দুল্লাহ আল যোবাইর
কক্সবাজারের সামুদ্রিক শৈবাল চাষে
তৈরি হবে লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ হিসেবে পরিচিত ।
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত প্রায় ১২০ কি:মি: কক্সবাজার জেলা হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে বিশাল উপকূলীয় এলাকা। সাতক্ষীরা,বাগেরহাট,খুলনা, সুন্দরবহ বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে লবনাক্ত পানির বিশালতা।
বলছিলাম সামুদ্রিক শৈবাল বা সিউইড ( Seaweed) এর কথা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষগুলো সুমদ্র থেকে ট্রলার দিয়ে মাছ ধরতে অভ্যস্ত মাছে ভাতে বাঙালি হিসেবে পরিচিত।
সমুদ্রের মাঝে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য খনিজসম্পদ দিয়েছেন অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন সেই নিয়াতমতের সাথে আমরা সবাই পরিচিত নয়।
সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দিয়ে উপকুলীয় অঞ্চল গুলোতে কোটি কোটি টাকার লবন চাষ হচ্ছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ও লবণ রপ্তানি করা হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে, তদ্রুপ সাগরের এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ যাদের ফল মুল নেই সমুদ্রের পানি থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে বৃদ্ধি পায় সীউইড বিশ্বব্যাপী জলজ সম্পদ হিসেবে পরিচিত যা খাদ্য, ঔষধ,প্রসাধনীসহ বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিকভাবে সীউইড ( সামুদ্রিক শৈবাল) কি একটু জানতে হবে, কোথায় জন্মে কোথায় পাওয়া যায় কোন এলাকা চাষাবাদের উপযোগী হতে পারে কত প্রকার সীউইড আছে বিস্তারিত জেনে নিই:-
সামুদ্রিক শৈবাল পরিচিতি চাষাবাদ পদ্ধতি: সামুদ্রিক শৈবাল বা সীউইড (Seaweed) সাগরের এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ যাদের কোন ফুল এবং মূল নেই, সমুদ্রের পানি থেকে শরীরের সম্পূর্ণ অংশ দিয়ে সরাসরি পুষ্টি গ্রহণ করে বৃদ্ধি পায়। সিউইড বিশ্বব্যাপী একটি জলজ সম্পদ হিসাবে পরিচিত যা খাদ্য, ঔষধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় যেমন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এর পাথুরে উপকূল, ইনানি সমুদ্র সৈকত এবং কক্সবাজারে প্রচুর পরিমাণে সীউইড জন্মে।
এছাড়া উপকূল বরাবর জোয়ার ভাঁটার অন্তর্বর্তী স্থানে ও সুন্দরবনে কিছু পরিমাণ সীউইড জন্মায়। বাংলাদেশের মানুষ সীউইডের কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতন নয় যদিও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অধিবাসীগণ ঢেউয়ে ভেসে আসা সীউইড বিশেষ করে হিপনিয়া প্রজাতিসমূহ সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে প্রায় তিন দশক আগে থেকে মায়ানমারে রাখাইন সম্প্রদায়ের কাছে বিক্রি করছে।
কক্সবাজারের নুনিয়ার ছড়া ও নাজিয়ারটেক সৈকতে টিউব ওয়ার্মের নরম কোর্সের গায়ে হিপনিয়া মাসিফরমিস জন্মায়।

বিগত ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার এর উদ্যোগে কক্সবাজার জেলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে শৈবাল চাষ হচ্ছে।
সামুদ্রিক শৈবাল পরিচিতি ও চাষাবাদ পদ্ধতি:-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূল জুড়ে প্রায় ২৫০০০ বর্গ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনায় (Action Plan) ‘বাংলাদেশে সিউইড চাষ’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর সাথে সঙ্গতি রেখে কৃষি মন্ত্রণালয় উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক শৈবাল চাষের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, (ক) বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক শৈবালসমূহ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি, (খ) খাবার হিসেবে এবং শিল্পে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে সীউইড চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন, (গ) সীউইড ফসলের খাদ্যমান নির্ধারণ, (ঘ) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিউইড চাষ সম্প্রসারণ, (ঙ) প্রযুক্তিগত কলাকৌশলের প্রচার-প্রসার এবং (চ) বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে চাষীদের অবহিতকরণ। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূল অঞ্চলের আবাদি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা মোকাবেলায় খাদ্য হিসেবে সামুদ্রিক শৈবালের উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন, উন্মুক্ত সমুদ্রে অভিযোজন পরীক্ষা পরিচালনা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাক আহমেদ প্রতিবেদককে জানান বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় ১হাজার কৃষক ও কৃষানী শৈবাল চাষ করছেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলার মধ্যে যে স্থান গুলোতে নিয়মিত শৈবাল চাষ হচ্ছে
উত্তর নুনিয়ার ছড়া কক্সবাজার সদর -৫০০ জন, রেজুখাল উখিয়া উপজেলা , শাহপরীরদ্বীপ টেকনাফ উপজেলা, সোনাদিয়া দক্ষিণ পাড়া মহেশখালী,সোনাদিয়া উত্তর পাড়া মহেশখালী, চৌফলদণ্ডী ঈদগাঁও, মহেশখালী চ্যানেল, বাঁকখালী চ্যানেল, উখিয়াসহ আরো কয়েকটি জায়গায় শৈবাল সহ বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক শৈবাল চাষ হচ্ছে তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য সফল কৃষকদের মধ্যে যাঁরা সাবলম্বী হতে শুরু করেছে উত্তর নুনিয়ার ছড়ার
মোছাঃ মরিয়ম , মমতাজ বেগম,সাবেকুন নাহার,ফরিদা ইয়াসমিন,মামুন খান, দেলোয়ার হোসেন,রুমা,সাজু বেগম, শফিকুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম প্রত্যেক কৃষক সর্বনিম্ন ৫০টি লাইন এবং ভেলা পদ্ধতি ব্যবহার করে বারি সীউইড-১ (গ্রেসিলারিয়া) এবং বারি সীউইড-২ (উলভা ল্যাকটুকা) চাষ করে সকল প্রকার সীউইড উদ্যোক্তা হিসেবে বাজারজাত করেন ব্যবসায়ী হাফেজ মোঃ নোমান।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগিতা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নোমানের ব্যবস্থাপনায় ২০১৬ সাল থেকে শৈবাল চাষ শুরু করেছে কক্সবাজার নুনিয়ারছড়া ও নাজিয়ার টেক।
তিনি আরো জানান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজারে যে পরিমাণ ল্যাব রয়েছে সেই ল্যাব দিয়ে বীজ উৎপাদন চাহিদা অনুপাতে হচ্ছে না সরকার যদি বৃহৎ পরিসরে অর্থনৈতিকভাবে ল্যাভ সাপোর্ট ও নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয় শৈবাল বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভুমিকা পালন করবে যা ইতিমধ্যেই পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র গুলোতে বানিজ্যিক ভাবে সীউইড চাষ হচ্ছে ও রপ্তানি আয় করছে উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে চীন ,জাপান উত্তর কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ,নেপাল, ভারতে শৈবাল চাষ করে হাজার কোটি টাকা রপ্তানি আয় করছে।
বাংলাদেশে যে পরিমাণ উপকুলীয় অঞ্চল রয়েছে শৈবাল চাষ করা যায় বার্ষিক ২০/৩০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি আয় বাড়বে এবং দেশের পুষ্টি ও খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের চাহিদা পূরণ করবে।

শৈবাল চাষীরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান কক্সবাজার তথা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ও দেশের বেকার সমস্যা দূর করতে হলে বানিজ্যিক ভাবে শৈবাল চাষ সরকার থেকে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, কক্সবাজার যেহেতু মন্ত্রী পেয়েছি আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই সামুদ্রিক শৈবাল যদি উপকূলীয় এলাকায় চাষ করা যায় লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান কক্সবাজারে সৃষ্টি হবে এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।
গবেষক ও উদ্যোক্তারা জানান এখন শুধু শীতকালীন মৌসুমে ফসল পাওয়া যায় , সরকারীভাবে যদি গভীর সমুদ্রে বেলা পদ্ধতিতে চাষ করা যায় সারা বছর ফসল পাওয়া যাবে এবং দেশ বিদেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে যে সীউইউ বাজারজাত করা হয় তার মধ্যে উদ্যোক্তা মোঃ নোমানের (০১৮৭২-৭৪৫৫৭৪) ও মকসুদুর রহমানের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ করতে পারবেন দেশ বিদেশ থেকে ।
নিজস্ব সংবাদ : 










