বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কক্সবাজার জেলা ইউনিটের আওতাধীন উখিয়া উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট টিম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় টিম লিডার ফারুকের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরামর্শ প্রদান করেন।
সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে এবং বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালিত এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, ভারী বৃষ্টিপাতের সময় করণীয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে বাসিন্দাদের অবহিত করেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানান।
স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগাম সচেতনতা সৃষ্টি। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরিবারগুলোকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য আবছার মাহমুদ বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষা করাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অনেক পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। আমরা তাদের ভয় দেখাতে নয়, সচেতন করতে এসেছি। পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে যেন তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যায়, সেই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকব।”
আরেক সদস্য বলেন, “আমরা কোনো পারিশ্রমিকের জন্য কাজ করি না। মানবসেবার আদর্শ থেকেই দুর্যোগের আগে মানুষের কাছে যাচ্ছি। অনেকেই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন। তাদের সঙ্গে কথা বলে, সম্ভাব্য বিপদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলছি এবং জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে সেটিও জানিয়ে দিচ্ছি। মানুষের একটি জীবনও যদি এভাবে রক্ষা পায়, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
উখিয়া উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট টিমের টিম লিডার ফারুক বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। রেড ক্রিসেন্টের মূল লক্ষ্যই হলো মানবিক সেবা প্রদান এবং দুর্যোগের আগেই মানুষকে প্রস্তুত করা। আমরা চাই না কোনো পরিবার অসচেতনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তাই স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের সময় ও শ্রম দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজন হলে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের এমন উদ্যোগ তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে অনেকেই নতুন করে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান তারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে আগাম সতর্কতা ও জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আর সেই কাজটিই নীরবে করে যাচ্ছে যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা। মানবিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করে চলেছেন। দুর্যোগের আগেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
জসিম উদ্দিন মামুন 











