উখিয়ার কোর্টবাজার ষ্টেশনকে যানজট মুক্ত করতে মাঠে ইউএনও পান্না আক্তার
আব্দুল্লাহ আল যোবাইর |
উখিয়া উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোর্টবাজারের দীর্ঘদিনের যানজট, ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং দূর করতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নিয়ম প্রতিষ্ঠায় একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউএনও পান্না আক্তারের নেতৃত্বে কোর্টবাজার স্টেশন ও বাজার এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন এবং বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় গত ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দোকান মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক, বাজার কমিটি, সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কোর্টবাজার দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, ট্রাফিক পরিদর্শক মিজানুর রহমান, ব্যবসায়ী সমিতির আবু রায়হান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মুহাম্মদ রিদুয়ানুল হক জিসান, শ্রমিক নেতা আমান উল্লাহ, মাওলানা অধ্যক্ষ রাহমত উল্লাহ সিকদার, আব্দুল আজিজ, ইনজামুল হক জিপার, মোহাম্মদ রায়হান, সাদ্দাম হোসেনসহ বিভিন্ন পরিবহন সমিতির নেতা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে ইউএনও পান্না আক্তার জানান, সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা সব অস্থায়ী দোকান নিজ দায়িত্বে অপসারণ করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী রাস্তা বা ফুটপাতে পণ্যসামগ্রী রাখতে পারবেন না। মাছ, মাংস, সবজি, ফল ও মুদিদোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যানজট কমাতে কোর্টবাজার স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নির্ধারিত পয়েন্টে সর্বোচ্চ দুটি টমটম ও দুটি সিএনজি অবস্থান করতে পারবে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। মালবাহী ট্রাকের লোড-আনলোড রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। অটোরিকশা, টমটম ও সিএনজির জন্য একমুখী চলাচল ব্যবস্থা চালু এবং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল না চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, “জনস্বার্থে কোর্টবাজারকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মার্কেট মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী পরিবর্তন আনা যাবে না। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও পরিবহন নেতারা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কোর্টবাজারকে যানজটমুক্ত রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।
এদিকে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে মানবিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি জানান,সহধর্মিণীর ইচ্ছায় মালিকানাধীন চৌধুরী মার্কেটে ইবাদতখানা ও ওয়াসরুম স্থাপন করলেন , ব্যবসায়ীদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা এবং বাথরুম ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, বাজার এলাকার অন্যান্য ভবন মালিকরাও এমন উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ীরা আরও স্বস্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোর্টবাজার স্টেশন ও বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই অভিযান যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয় এবং ঘোষিত সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে কোর্টবাজারের দীর্ঘদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
আব্দুল্লাহ আল যোবাইর 











