উখিয়ার হলদিয়াপালং বিভাজন নিয়ে ক্ষোভ, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি::
কক্সবাজারের উখিয়ায় হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মূল অংশকে প্রস্তাবিত রুমখাপালং ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলা মরিচ্যা বাজারে এই সংবাদ সম্মেলন করেন৷
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হলদিয়াপালং ইউনিয়নবাসীর পক্ষে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিভাজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসংখ্যা, সরকারি সেবার প্রাপ্যতা এবং আর্থ-সামাজিক প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা উন্নয়নের বিরোধী নন। জনগণের সার্বিক কল্যাণে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, উন্মুক্ত জনশুনানি এবং নিরপেক্ষ সমীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— ইউনিয়ন বিভাজনের বর্তমান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণে উন্মুক্ত জনশুনানির আয়োজন, নিরপেক্ষ জরিপের মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি সেবার প্রাপ্যতা ও সামাজিক বন্ধন বিবেচনায় ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালের উত্তরাংশের জনসাধারণকে হলদিয়াপালং ইউনিয়নেই বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের বিরোধিতা করা নয়; বরং জনস্বার্থে ইউনিয়ন বিভাজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর রফিক, সাংবাদিক সোহেল সিকদার রানা, ইউসুফ মুহাম্মদ বাপ্পী, মোজাম্মেল হক সিকদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
নিজস্ব সংবাদ : 











