রাজনীতি যখন জনকল্যাণের আদর্শ ছেড়ে মাদকের কালো টাকার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন তা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ধরায়। এর ফলে ভয়াবহ কিছু প্রভাব দেখা দেয়। তরুণদের আদর্শিক রাজনীতির পরিবর্তে পেশিশক্তি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এতে মেধাবী ও সুস্থ ধারার নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
মাদক ও রাজনীতি যখন হাত মেলায়, তখন এলাকাভিত্তিক গ্যাং সংস্কৃতি ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক মাদক কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক মাদক সম্রাট তাদের পুরোনো ‘ছাতা’ বদলে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের সন্ধান করে, যাতে তাদের ব্যবসা ও প্রভাব অব্যাহত থাকে।
তরুণ প্রজন্ম, যারা দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি, তারা নেশার ঘোরে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। এতে পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। মাদক ও দুর্নীতির এই কলুষিত পরিবেশ দেখে সৎ ও যোগ্য তরুণরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অনেক মাদক কারবারি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে। তারা মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় থেকে দলের বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে এবং বিনিময়ে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অনেক সময় বড় বড় রাজনৈতিক দলের ইফতার মাহফিল বা জনসভার মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এতে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।
মাদকের মাধ্যমে উপার্জিত বিপুল অর্থ তারা রাজনীতিতে বিনিয়োগ করে এবং বিভিন্ন সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে।
বাংলাদেশে মাদকের ব্যাপক বিস্তার শুরু হয় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে। মিয়ানমারের আরাকান তথা রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণ এখন কেবল একটি সামরিক বিজয় নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত ‘মাদক অর্থনীতি’র উত্থান। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে আরাকান আর্মি বাংলাদেশকে তাদের মাদকের প্রধান ‘ডাম্পিং স্টেশন’ ও ‘ক্যাশ মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
নিজস্ব সংবাদ : 
















