বিগত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে আমূল পরিবর্তন এসেছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ জনমনে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—নিষিদ্ধঘোষিত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ কি তবে এই অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে?
প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রতি ইফতার মাহফিলের আড়ালে উখিয়া-টেকনাফে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি গোপন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল সক্রিয়ই হচ্ছেন না, বরং জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই জুলাই বিপ্লবের কলম সৈনিক ও যোদ্ধাদের ওপর এমন হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো প্রশাসনের নির্লিপ্ততা। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কর্মীরা যখন প্রকাশ্যে বা গোপনে নিজেদের জানান দিচ্ছে এবং জুলাই বিপ্লবের সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তখন প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই নীরবতা কি অক্ষমতা নাকি কোনো সমঝোতার অংশ—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
অন্যদিকে, মাঠের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এখানে বেশ রহস্যজনক। আওয়ামী লীগের এমন বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পুনরুত্থান চেষ্টার বিপরীতে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি-জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জোরালো প্রতিবাদ বা বক্তব্য আসেনি। এই নীরবতাকে সাধারণ মানুষ ‘মৌন সম্মতি’ বা ‘রাজনৈতিক উদাসীনতা’ হিসেবে দেখছে। জনমনে এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে, তবে কি ক্ষমতার অলিন্দে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
উখিয়া-টেকনাফের মতো সংবেদনশীল এলাকায় যদি ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ঘটে, তবে তা কেবল স্থানীয় শান্তির জন্যই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর হতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। পুনর্বাসনের রাজনীতি নয়, বরং জবাবদিহিতার রাজনীতিই এখন সময়ের দাবি।
নিজস্ব সংবাদ : 
















