আব্দুল্লাহ আল যোবাইর।
“তীব্র রোদে গামছা মাথায় দিয়ে বাসের অপেক্ষায় শিশুসহ নারী যাত্রী” ১ কি:মি: কোর্ট বাজার ষ্টেশন এলাকায় নেই একটিও গাছ: কংক্রিটের উত্তাপে পুড়ছে হাজারো যাত্রী।
কক্সবাজার দক্ষিনের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ষ্টেশন হিসেবে পরিচিত কোর্ট বাজার ।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই ষ্টেশনের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত প্রায় ১কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একটি গাছের দেখা মেলে না!
চারপাশে শুধু কংক্রিট, উঁচু উঁচু বিল্ডিং,পিচ, টিনের ছাউনি আর ধুলা। ফলে তীব্র তাপদাহে এই ১ কিমি এলাকা পরিণত হয়েছে ‘হিট চেম্বারে’।
সরেজমিন চিত্রে গতকাল দুপুর ১টায় এই প্রতিবেদক কোর্ট বাজার ষ্টেশনের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত হেঁটে দেখেন – রাস্তার দুই পাশে, ডিভাইডারে, বাস কাউন্টারের সামনে, দোকানের পাশে *কোথাও একটি জীবিত গাছ নেই।*
অথচ ৫ বছর আগেও এখানে সারি সারি রেইনট্রি, কৃষ্ণচূড়া ও বিভিন্ন গাছ ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ষ্টেশন সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের সময় ২০১৭ সাল থেকে ৪৩টি গাছ কাটা পড়ে। কথা ছিল নতুন করে গাছ লাগানো হবে কিন্তু ৫ বছরেও লাগানো হয়নি কোন গাছ।
তীব্র গরমে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে:
দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকে ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু কংক্রিট ও পিচের কারণে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৫২ ডিগ্রিতে।
টেকনাফগামী যাত্রী জয়নাল আবেদীন বলেন, _”১ কিমি হাঁটলে মনে হয় জাহান্নামে হাঁটতেছি। বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা নাই। একটা গাছ থাকলে মা-বোনরা একটু জিরাইত।”_
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, গত এপ্রিল মাসে শুধু বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের রোগী ভর্তি হয়েছে অনেকেই মারা গেছেন তীব্র গরমের ফলে স্ট্রং ডাইরিয়ায়ও অনেকেই মারা গেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা উখিয়া উপজেলার সভাপতি সাংবাদিক এম আর আয়াজ রবি বলেন , _”১ কিমি এলাকায় ১টিও গাছ না থাকা মানে ওই এলাকা অক্সিজেন শূন্য হয়ে যাচ্ছে। ১টা বড় গাছ দিনে ২০ কেজি অক্সিজেন দেয়। ৪৩টা গাছ কাটায় এখানে দিনে ৮৬০ কেজি অক্সিজেন কম উৎপাদন হচ্ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ছে। এটা ধীরে ধীরে পুরো শহরের বাতাস দূষিত করবে।”
*গাছ শূন্য ১ কিমি এলাকা ‘ট্যুরিস্ট ক্যাপিটাল’ কক্সবাজারের জন্য লজ্জাজনক।
* উন্নয়নের নামে গাছ কাটা বন্ধ করে এখনই ‘সবুজ কোর্ট বাজার’ গড়ার দাবি সবার।
“গাছ লাগান, জীবন বাঁচান”
নিজস্ব সংবাদ : 










