ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উখিয়ায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই সন্তান অপহরণ, ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি… রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার রাজধানীর আলিয়া মাদরাসায় প্রবেশের রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যাও জরুরি: উখিয়ায় বাপার চারা বিতরণ উৎসবে ইউএনও পান্না আক্তার উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া উপজেলার এই প্রথম সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার রোগী দেখবেন কোর্টবাজার অরিজিন হাসপাতাল (ব্রেইন , স্পাইন ও নার্ভ বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জন জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উখিয়া রাজাপালংয়ে জামায়াতের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজাপালংয়ে জামায়াতের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

দামী গাড়ি, দামী বাড়ি—বৈধ আয় নাকি অন্ধকারের গল্প?

দামী গাড়ি, দামী বাড়ি—বৈধ আয় নাকি অন্ধকারের গল্প?

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদে দেখা যাচ্ছে, কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়িতে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের ঘটনা সামনে আসছে। এসব ঘটনা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—সমাজে হঠাৎ করে যারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠছেন, তাদের সম্পদের উৎস কতটা বৈধ?
অবশ্যই সব ধনী মানুষকে একই চোখে দেখা অন্যায়। অনেকেই কঠোর পরিশ্রম, ব্যবসা বা বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেন। কিন্তু যারা অবৈধ উপায়ে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। কারণ অবৈধ সম্পদের পেছনে থাকতে পারে কর ফাঁকি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার।
একসময় মনে করতাম, মানুষ যত শিক্ষিত হবে, সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস তত কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র দেখায়। উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেউ কেউ ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন। মুখে নীতি-নৈতিকতার কথা বলা হলেও, অর্থের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার ঘটনাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
এই পরিস্থিতিতে আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। সমাজকে শুধু আইন দিয়ে নয়, নৈতিকতা দিয়েও বদলাতে হবে। আল্লাহভীতি, সততা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করতে পারলেই হালাল-হারামের পার্থক্য বোঝা সহজ হবে। নৈতিক মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
ইতিহাস সাক্ষী, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সাময়িক বিলাসিতা দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। অনেকেই শেষ পর্যন্ত রোগব্যাধি, মানহানি, আইনি জটিলতা কিংবা পারিবারিক অশান্তির মুখোমুখি হন। একজন ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, পরকালেও প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করতে হবে।
তাই সমাজের প্রতিটি মানুষ—সে সাধারণ নাগরিক হোক, ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি—নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসুক। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, আর আমরা প্রত্যেকে নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখি। তাহলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন আমিন।

লেখক: আব্দুল্লাহ আল যোবাইর সম্পাদক কারেন্ট নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই সন্তান অপহরণ, ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি…

দামী গাড়ি, দামী বাড়ি—বৈধ আয় নাকি অন্ধকারের গল্প?

আপডেট সময় ০১:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দামী গাড়ি, দামী বাড়ি—বৈধ আয় নাকি অন্ধকারের গল্প?

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদে দেখা যাচ্ছে, কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়িতে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের ঘটনা সামনে আসছে। এসব ঘটনা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—সমাজে হঠাৎ করে যারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠছেন, তাদের সম্পদের উৎস কতটা বৈধ?
অবশ্যই সব ধনী মানুষকে একই চোখে দেখা অন্যায়। অনেকেই কঠোর পরিশ্রম, ব্যবসা বা বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেন। কিন্তু যারা অবৈধ উপায়ে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। কারণ অবৈধ সম্পদের পেছনে থাকতে পারে কর ফাঁকি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার।
একসময় মনে করতাম, মানুষ যত শিক্ষিত হবে, সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস তত কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র দেখায়। উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেউ কেউ ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন। মুখে নীতি-নৈতিকতার কথা বলা হলেও, অর্থের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার ঘটনাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
এই পরিস্থিতিতে আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। সমাজকে শুধু আইন দিয়ে নয়, নৈতিকতা দিয়েও বদলাতে হবে। আল্লাহভীতি, সততা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করতে পারলেই হালাল-হারামের পার্থক্য বোঝা সহজ হবে। নৈতিক মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
ইতিহাস সাক্ষী, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সাময়িক বিলাসিতা দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। অনেকেই শেষ পর্যন্ত রোগব্যাধি, মানহানি, আইনি জটিলতা কিংবা পারিবারিক অশান্তির মুখোমুখি হন। একজন ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, পরকালেও প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করতে হবে।
তাই সমাজের প্রতিটি মানুষ—সে সাধারণ নাগরিক হোক, ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি—নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসুক। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, আর আমরা প্রত্যেকে নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখি। তাহলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন আমিন।

লেখক: আব্দুল্লাহ আল যোবাইর সম্পাদক কারেন্ট নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।