নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভয়াবহ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের খরার কারণে কূপ, ঝরনা ও প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিবাসী ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে পাহাড়ের নিচে নেমে গিয়ে সামান্য পানি সংগ্রহ করছেন। অনেকেই পাহাড়ি ঝিরির পাথরের ফাঁকে জমে থাকা অল্প পানি সংগ্রহ করে দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন। এতে সময়, শ্রম ও শারীরিক কষ্ট—সবই বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আগে কাছাকাছি ঝরনা থেকে পানি পাওয়া যেত, এখন সেগুলো শুকিয়ে গেছে। দিনে কয়েকবার নিচে নামতে হয়, তবুও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।”
পানি সংকটের কারণে রান্না, পানীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় অস্থায়ী কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দ্রুত টেকসই সমাধান হিসেবে গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, পাহাড়ের মানুষের এই দুর্দশা লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আজিজুল হক রানা 














