উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ভালুকিয়া গ্রামের তুলাতলি খালের পূর্ব কূলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। প্রায় ২৮ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ তক্তার সেতু ব্যবহার করার পর অবশেষে সেখানে নির্মিত হয়েছে একটি মজবুত লোহার সেতু, যা এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের উপর নির্মিত পুরনো তক্তার সেতুটি প্রায় তিন দশক আগে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতিবছর একাধিকবার তক্তা পরিবর্তন করলেও সেতুটি নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। মাঝেমধ্যে তক্তা ভেঙে যাওয়ায় ইজিবাইক, রিকশাসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য এই সেতুটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী প্রায় হাজারাধিক শিক্ষার্থী এবং পাশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষ নিয়মিত এই সেতু ব্যবহার করলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় বিরাজ করত। ইতোমধ্যে বহুবার তক্তা ভেঙে মানুষ পানিতে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছর সেতুটির অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে স্থানীয় সচেতন মহল, সর্বস্তরের জনগণ এবং জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সমাজসেবক আজিজুর রহমান, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী এবং এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগ ও আর্থিক সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। পুরনো তক্তা অপসারণ করে সেখানে টেকসই লোহার প্লেইন শিট বসিয়ে সেতুটিকে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সেতুটি দিয়ে ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ সকল ধরনের যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আর কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
এলাকাবাসী গণমাধ্যমকে জানান, “আগের তুলনায় সেতুটি এখন অনেক বেশি মজবুত ও নিরাপদ। রাতে চলাচলেও আর কোনো ভয় নেই। দীর্ঘদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি জানানো হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। অবশেষে বর্ষার আগেই সেতুটি সংস্কার হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
সমাজসেবক আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, “মানুষের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব। অতীতে যেমন মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব—ইনশাআল্লাহ।”
সংস্কার কাজ চলাকালীন সময়ে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন, বাদশা আলম, মো. ইউনুস, মসজিদের ইমাম ফরিদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলাকাবাসী এই মহৎ উদ্যোগে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আব্দুল্লাহ আল যোবাইর 











