পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে Newma Chowdhury এর গল্পটা শুধু সাফল্যের না। এটা প্রশ্ন খোঁজার গল্প।
শুরুটা ছিল মার্কেটিং দিয়ে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, Marketing বিভাগ থেকে
BBAI Research Assistant হিসেবে কাজ করতে করতে শিখলেন-
Literature Review, Data Collection, Statistical Analysis, Academic Writing
সেখান থেকেই আসলো ২ টা পাবলিকেশন:
1. বাংলাদেশের পেশাজীবীদের ব্যাংক চয়েস 2. সেলুলার ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের রিটেনশন
মানুষের সিদ্ধান্ত আর আচরণ বোঝার হাতেখড়ি এখানেই।
কিন্তু মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরতো…
“আমার নিজের কমিউনিটির অর্থনীতি, সংস্কৃতি, অধিকার নিয়ে গবেষণা করবে কে?”
শিকড়ের কাছে ফেরা
এই প্রশ্নই Newma আপুকে নিয়ে গেল মার্কেট রিসার্চ থেকে নিজের মানুষের কাছে।
১. University of Zurich এর Ethnographic Museum
বাংলাদেশের মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। ১৯৬০ সালের আগের মারমা প্রবাদ ও অডিও রেকর্ডের অর্থ উদ্ধার করেছেন প্রবীণ, ভাষাবিদদের সাথে।
২. Southern Cross University
Research Assistant হিসেবে মারমা জনগোষ্ঠীর Traditional Justice System নিয়ে ফিল্ড লেভেল কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ।
o. Thinkers’ Panel
Research Fellow। ডেটা অ্যানালাইসিস, গ্র্যান্ট, পলিসি রিলেটেড রিসার্চ।
8. Youth Policy Forum
Policy Envoy। কাজ করেছেন Indigenous Rights, Microfinance, Food Security এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেভেলপমেন্ট পলিসি নিয়ে।
সেখানেই মূল প্রশ্নটা পরিষ্কার হলো:
“যাদের জন্য পলিসি তৈরি হয়, তাদের কণ্ঠস্বর কি সেই পলিসিতে জায়গা পায়?”
কাজ শুধু কাগজে ছিল না
Marma School ও Bangladesh Marma Students Council এর সাথে কাজ করেছেন: ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার, ফ্রি কোচিং।
করোনার সময় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে কাজের জন্য পেয়েছেন:
Inspiring Women Volunteer Award 2022 Equality Award 2020 – কিশোরীদের ডিজিটাল সেফটির জন্য
এগুলো কি শুধু সার্টিফিকেট?
না। এগুলোই একজন Public Policy রিসার্চার হওয়ার বাস্তব ট্রেনিং।
গন্তব্য: UNC Charlotte, PhD in Public Policy
এরপর Oklahoma State University থেকে International and Global Studies এ মাস্টার্স।
Wes Watkins Center এ Global Trade Intern হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডেভেলপমেন্টের অভিজ্ঞতা।
আর এখন…
University of North Carolina Charlotte Public Policy তে PhD সাথে Wayland H. Cato Jr. First Year Doctoral Fellowship
তাহলে এটা কি সাবজেক্ট চেঞ্জ?
না ভাই।
এটা ছিল সবচেয়ে স্বাভাবিক গন্তব্য।
Marketing শিখিয়েছে মানুষের আচরণ। পাহাড় শিখিয়েছে মানুষের বাস্তবতা। আর Public Policy হবে সেই দুইটার
মেলবন্ধন।
শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ টা শিক্ষা:
1. ক্লাব/সংগঠন নিয়ে হাসাহাসি করবেন না। ওখান থেকেই স্কিল আসে।
2. শুধু পদের জন্য ঢুকবেন না। প্রশ্ন করুন: “আমি কি শিখছি? কাকে সাহায্য করছি?”
3. আপনার শিকড়ই আপনার সবচেয়ে বড় রিসার্চ কোয়েশ্চেন। পরিচয়কে শক্তি বানান।
আজ যে ছোট প্রজেক্টকে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না,
কে জানে সেটিই একদিন আপনার PhD এর প্রথম অধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদ : 
















