ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উখিয়ায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই সন্তান অপহরণ, ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি… রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার রাজধানীর আলিয়া মাদরাসায় প্রবেশের রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যাও জরুরি: উখিয়ায় বাপার চারা বিতরণ উৎসবে ইউএনও পান্না আক্তার উখিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া উপজেলার এই প্রথম সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার রোগী দেখবেন কোর্টবাজার অরিজিন হাসপাতাল (ব্রেইন , স্পাইন ও নার্ভ বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জন জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উখিয়া রাজাপালংয়ে জামায়াতের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজাপালংয়ে জামায়াতের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

৭ মাসে ৩০ পারা হিফজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উখিয়ার হাফেজ রবিউল আলম

আবদুল্লাহ আল যোবাইর।

মাত্র ৭ মাসে পবিত্র কুরআন শরীফের ৩০ পারা মুখস্থ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উখিয়া উপজেলার হাতিমোড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী হাফেজ রবিউল আলম।

গত ১৬ মে ২০২৬, রবিবার বিকাল ৫টায় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম দরগাহ বিল কবরস্থান সংলগ্ন তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক পাগড়ি প্রদান ও বিদায় অনুষ্ঠান।

উক্ত অনুষ্ঠানে এ বছর হিফজ সমাপ্ত করে পাগড়ি গ্রহণ করেন ১৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৭ মাসে পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে নজির গড়েন হাফেজ রবিউল আলম। হিফজ সমাপ্তকারী ১৮ জন হাফেজই অতিথিদের সামনে কুরআন তেলাওয়াত পেশ করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত কয়েক বছরে এ পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী হিফজ সমাপ্ত করে বিদায় নিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর হাফেজ হয়েছেন ২২জন এবং চলতি বছর ১৮ জন।

বর্তমানে মাদ্রাসায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার মধ্যে ১৪ জন এতিম। হিফজ বিভাগে ৩ জন ও জেনারেল বিভাগে ১ জনসহ মোট ৪ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। হিফজের পাশাপাশি মাদ্রাসায় ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষা কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন বলেন, আমরা বাইরে থেকে কোনো অনুদান পাই না,
প্রতিষ্ঠান চালাতে অনেক কষ্ট হয়। বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে এই মাদ্রাসা আরও এগিয়ে যাবে।”

তিনি জানান, মাদ্রাসাটি জাতীয় পর্যায়ে কয়েকবার পুরস্কার লাভ করেছে। ২০২৩ সালে হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট ছাব্বির আহমেদ। সঞ্চালনা করেন আবু নাছিম বাবুল।

প্রধান অতিথি ছিলেন উখিয়া উপজেলা বাংলাদেশ কৃষক দলের সদস্য সচিব সাদমান জামি চৌধুরী। প্রধান মেহমান ছিলেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান বক্তা ছিলেন মাওলানা মুফতি রিদুয়ান কাদির। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা তাইফুর হোসাইন ও মাওলানা আব্দুর রহিম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ছয়তারা রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী কবির আহমদ সওদাগর, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন এবং কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি জহির আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ সাইফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় সনদপ্রাপ্ত ক্বারী ফরহাদুল ইসলাম ফাহিম এবং মাস্টার মুহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।

হাফেজ রবিউল আলম রাজাপালং ইউনিয়নের হাতি মোড়া গ্রামের নুরুল হাকিমের ছেলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই সন্তান অপহরণ, ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি…

৭ মাসে ৩০ পারা হিফজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উখিয়ার হাফেজ রবিউল আলম

আপডেট সময় ০৪:১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আবদুল্লাহ আল যোবাইর।

মাত্র ৭ মাসে পবিত্র কুরআন শরীফের ৩০ পারা মুখস্থ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উখিয়া উপজেলার হাতিমোড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী হাফেজ রবিউল আলম।

গত ১৬ মে ২০২৬, রবিবার বিকাল ৫টায় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম দরগাহ বিল কবরস্থান সংলগ্ন তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক পাগড়ি প্রদান ও বিদায় অনুষ্ঠান।

উক্ত অনুষ্ঠানে এ বছর হিফজ সমাপ্ত করে পাগড়ি গ্রহণ করেন ১৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৭ মাসে পূর্ণ কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে নজির গড়েন হাফেজ রবিউল আলম। হিফজ সমাপ্তকারী ১৮ জন হাফেজই অতিথিদের সামনে কুরআন তেলাওয়াত পেশ করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত কয়েক বছরে এ পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী হিফজ সমাপ্ত করে বিদায় নিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর হাফেজ হয়েছেন ২২জন এবং চলতি বছর ১৮ জন।

বর্তমানে মাদ্রাসায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার মধ্যে ১৪ জন এতিম। হিফজ বিভাগে ৩ জন ও জেনারেল বিভাগে ১ জনসহ মোট ৪ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। হিফজের পাশাপাশি মাদ্রাসায় ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষা কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন বলেন, আমরা বাইরে থেকে কোনো অনুদান পাই না,
প্রতিষ্ঠান চালাতে অনেক কষ্ট হয়। বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে এই মাদ্রাসা আরও এগিয়ে যাবে।”

তিনি জানান, মাদ্রাসাটি জাতীয় পর্যায়ে কয়েকবার পুরস্কার লাভ করেছে। ২০২৩ সালে হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট ছাব্বির আহমেদ। সঞ্চালনা করেন আবু নাছিম বাবুল।

প্রধান অতিথি ছিলেন উখিয়া উপজেলা বাংলাদেশ কৃষক দলের সদস্য সচিব সাদমান জামি চৌধুরী। প্রধান মেহমান ছিলেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান বক্তা ছিলেন মাওলানা মুফতি রিদুয়ান কাদির। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা তাইফুর হোসাইন ও মাওলানা আব্দুর রহিম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ছয়তারা রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী কবির আহমদ সওদাগর, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন এবং কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি জহির আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ সাইফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় সনদপ্রাপ্ত ক্বারী ফরহাদুল ইসলাম ফাহিম এবং মাস্টার মুহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।

হাফেজ রবিউল আলম রাজাপালং ইউনিয়নের হাতি মোড়া গ্রামের নুরুল হাকিমের ছেলে।